ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর দপ্তরের অফিস থেকে রাজ্যের ডিজিপি অনুরাগ ধনকরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন, তাঁর অফিস চেম্বারের বাথরুম থেকেই দেহটি পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। তবে মৃত্যুর আসল কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ আগরতলার জিবি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেন। তদন্তকারীরা ব্যক্তিগত জীবন থেকে কর্মক্ষেত্র— সব দিক খতিয়ে দেখছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ডিজিপির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁদের অভিযোগ, প্রথমে হাসপাতালে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁরা পরিবারের সদস্য এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিফলন এই ঘটনা। অন্যদিকে মানিক সরকার বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রাজ্যের সর্বোচ্চ পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অনুরাগ ধনকর ২০২৫ সালের মে মাসে ত্রিপুরার ডিজিপি হন। এর আগে তিনি গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় তিনি ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।


