তমলুক শহরের একটি নামী মন্দির চত্বরে চার বছরের এক শিশুকন্যাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে উত্তাল এলাকা। গত ১৪ জুলাই এই ঘটনাটি ঘটে। শিশুটি যখন খেলছিল, তখন তাকে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরেই বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিবার কিংবা মন্দির কর্তৃপক্ষ—কেউই পুলিশের দ্বারে যাননি। উল্টে স্থানীয় দুই নেতার মধ্যস্থতায় সালিশি সভা বসিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। তবে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর, চিকিৎসকের তৎপরতায় পুলিশে লিখিত খবর যায়। সেই ভিত্তিতে ১৭ জুলাই অভিযুক্ত প্রিয়ম দাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
আইনজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মারাত্মক অপরাধের ক্ষেত্রে নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা এবং বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি (১৬৪ ধারা) দ্রুত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে প্রমাণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং পরিবারকে ভয় দেখানোর সুযোগ থাকে না। কিন্তু এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তকারী অফিসার গোপন জবানবন্দির আবেদন আদালতে জমা দেননি।
পূর্ব মেদিনীপুর আদালতের আইনজীবীদের দাবি, তদন্তে এই ঢিলেমির ফলে বিচার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, তদন্তকারী অফিসারের দাবি—তিনি থানার কাজে বাইরে থাকায় আবেদন পাঠাতে দেরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, কারণ সম্প্রতি অন্য একটি জায়গায় একই ধরনের ঘটনায় প্রবল প্রতিবাদ হলেও, এখানে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে নানা মহল সোচ্চার হয়েছে।


