কেরলের পালাকাড় এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় ছত্তিশগড়ের ৩১ বছর বয়সী পরিযায়ী শ্রমিক রামনারায়ণকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা কেরল জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে আরএসএসের লোকজন জড়িত। সোমবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দোষীরা যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার পালাকাড় জেলার ওয়ালাইয়ারের কাছে কিজাকেআট্রায়ালায়ম এলাকায়। অভিযোগ, চোর সন্দেহে রামনারায়ণকে মারধর করা হয় এবং সেই মারধরেই তাঁর মৃত্যু হয়। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, কেরল একটি প্রগতিশীল ও মানবিক রাজ্য হিসেবে পরিচিত। এই ধরনের ঘটনা কেরলের ভাবমূর্তিকে আঘাত করে এবং কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
নিহতের পরিবার বর্তমানে কেরলেই রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনার তদন্তে জেলা পুলিশের ১০ জন আধিকারিককে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। দলটিকে ঘটনার গভীরে গিয়ে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
রাজ্যের মন্ত্রী এম বি রাজেশ দাবি করেছেন, রামনারায়ণকে ভিনরাজ্যের মানুষ ও বাংলাভাষী বলে রটিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপি নেতা কুম্মানম রাজশেখরন বলেন, এর সঙ্গে বিজেপি বা আরএসএসের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি সমাজবিরোধীদের কাজ। রাজ্য সরকার নিহতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিহতের ভাই জানিয়েছেন, ২৫ লক্ষ টাকা না পেলে তাঁরা দেহ গ্রহণ করবেন না। এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে।


