মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকার জানকীনগর গ্রামে এক সাধারণ পরিবারের ছেলে আলমগীর হোসেন রাজ্যের প্রশাসনিক পরীক্ষায় বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। সদ্য প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) মেইন পরীক্ষার ফলাফলে তিনি এক্সিকিউটিভ ক্যাটাগরিতে ২০তম স্থান পেয়েছেন। এর ফলে খুব শিগগিরই তিনি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও পদে দায়িত্ব নিতে চলেছেন। জানা গিয়েছে, আলমগীরের পরিবার আর্থিকভাবে খুব স্বচ্ছল নয়। তার বাবা নিফাজুদ্দিন শেখ দীর্ঘদিন রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। পরবর্তীকালে তিনি নির্মাণ সামগ্রীর ছোট ব্যবসা শুরু করেন। মা সালেহা বেগম গৃহবধূ। চার বোনের মধ্যে একমাত্র ছেলে আলমগীর। বর্তমানে তার নিজের সংসারে স্ত্রী ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
শিক্ষাজীবনে আলমগীর ছিলেন মনোযোগী ও পরিশ্রমী। বেলডাঙার সিআরজিএস স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। এরপর বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পাশাপাশি দূরশিক্ষার মাধ্যমে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন। সংসারের দায়িত্ব ও পড়াশোনা, দুটোই সামলে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় সফল এক্সিকিউটিভ অফিসার নাজির হোসেনের সাফল্য আলমগীরকে অনুপ্রাণিত করে। সেই থেকেই প্রশাসনিক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। বন্ধুদের সঙ্গে দলবদ্ধ ভাবে পড়াশোনা করে, বড় কোনও কোচিং ছাড়াই তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। ফল প্রকাশের পর আলমগীর জানান, “আল্লাহর অশেষ কৃপা ও পরিবারের সমর্থনেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।” তিনি ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চান। তার মা বলেন, ছেলে বিডিও হবে জেনে তিনি গর্বিত ও আনন্দিত। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এ বছর বেলডাঙা থেকেই আরও তিনজন গ্রুপ ‘এ’ পদে সফল হয়েছেন।


