রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি চলতেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। বহু স্কুল ও কলেজে এখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি পরীক্ষার সূচিও এলোমেলো হয়ে পড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে পড়ুয়ারাই।
ফরাক্কার অর্জুনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১১ হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। কিন্তু সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কারণে হঠাৎ করেই স্কুল বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কতদিন এই পরিস্থিতি চলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একই অবস্থা মুর্শিদাবাদের ছাবঘাটি হাই স্কুলেও। সেখানেও বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া থাকলেও পাঠদান আপাতত বন্ধ।
হাওড়ার সাঁতরাগাছির মেয়েদের একটি স্কুলে পরীক্ষার মাঝপথেই পরিবর্তন আসে। প্রশাসনের নির্দেশে স্কুল ভবন খালি রাখতে বলা হয়। ফলে নির্ধারিত কিছু পরীক্ষা নেওয়া গেলেও বেশ কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সেই পরীক্ষাগুলি কবে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এই পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস চালুর কথা ভাবা হলেও, এত বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে একসঙ্গে সেই ব্যবস্থায় আনা কঠিন বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। ফলে পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে আগামী পরীক্ষার প্রস্তুতিও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা।
শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, আগে থেকেই এই সমস্যা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি ছিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাহিনী না রেখে অন্য জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করা হোক। কারণ এই সময়েই সাধারণত মূল্যায়ন পর্ব চলে। কিন্তু সেই আবেদন গুরুত্ব পায়নি বলেই অভিযোগ।
এদিকে, কলেজ স্তরেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক কলেজে বাহিনী থাকার কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ফল প্রকাশের পর নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে ভোটের প্রস্তুতির মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা বড়সড় চাপে পড়েছে। শিক্ষক থেকে ছাত্রছাত্রী সকলেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পড়াশোনার বড় ক্ষতি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


