বাংলার নির্বাচনের আগে রাজ্যে জোরদার প্রচার শুরু করেছেন বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। ভোটের ময়দানে মানুষের মন জিততে তাঁরা বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করছেন। তবে সেই চেষ্টায় মাঝেমধ্যেই ভুলভ্রান্তিও সামনে আসছে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভায়।
বোলপুরে প্রচারে এসে তিনি বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একটি বড় ভুল করে বসেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর নাম জড়িত ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’ বলতে গিয়ে তিনি ভুল করে ‘রবিশঙ্কর’ বলে ফেলেন। এই মন্তব্য ঘিরে সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়। সভায় তিনি এক শিল্পীকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়েই এই ভুল করেন, যা পরে বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের দাবি, রবিশঙ্কর একজন বিখ্যাত সেতারবাদক, আর রবীন্দ্রসঙ্গীত হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি—এই দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এই ধরনের ভুল প্রমাণ করে যে বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে বিজেপির নেতাদের স্পষ্ট ধারণা নেই বলেই অভিযোগ তোলে তারা। পাশাপাশি তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলার মানুষ এই ধরনের ‘অপমান’ মেনে নেবে না।
অন্যদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে আরেকটি বিষয়ও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের ঠিক আগে এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনের আগে এমন গ্রেফতারি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, এতে ‘সমান সুযোগের পরিবেশ’ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিরোধী পক্ষের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই টার্গেট করা হচ্ছে—যা গণতন্ত্রের পক্ষে ভালো নয়। বাংলার নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। একদিকে ভাষাগত ভুল নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে গ্রেফতারির ঘটনাকে ঘিরে অভিযোগ—এই দুই ইস্যু মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এখন দেখার, এই ঘটনাগুলির প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা পড়ে।


