দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। যেসব জায়গায় অতীতে ভোটের সময় অশান্তি বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলিকে আলাদা করে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এই সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসায় প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভাঙড়, কাঁচরাপাড়া ও জগদ্দলের মতো জায়গায় বোমা উদ্ধারের খবর এবং হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও চিন্তার মধ্যে ফেলেছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনও ধরনের ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এবার কিছু নতুন কৌশলও নেওয়া হচ্ছে। আগের দফায় বুথের চারপাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে নিয়ন্ত্রণ বলয় তৈরি করা হয়েছিল। এবার তার পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনও ভয় ছাড়াই ভোট দিতে পারেন।শুধু বাহিনী মোতায়েনেই থেমে থাকছে না নজরদারি। আধুনিক প্রযুক্তিকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের শরীরে লাগানো ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে প্রতিটি ঘটনার প্রমাণ রাখা যায় এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রেও কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কোথাও যদি বেআইনি অস্ত্র বা বিস্ফোরক মজুতের খবর পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানার কর্তাদের সরাসরি দায় নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। কোনও গাফিলতি ধরা পড়লে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকায়। আগে এই অঞ্চলে ভোটের সময় বড় ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল, এমনকি প্রাণহানির খবরও সামনে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, টহলদারি বাড়ানো এবং নাকা চেকিং জোরদার করা হয়েছে।ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভোটের আগে গোলমাল সৃষ্টি বা ভয় দেখানোর অভিযোগে একাধিক জায়গা থেকে বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য একটাই—শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন, এবং সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সতর্ক নির্বাচন কমিশন, অশান্তি রুখতে রাজ্যজুড়ে ‘রেড জোন’ চিহ্নিত ও নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা
Popular Categories


