পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিজেপি নেতা সুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই জয় পাওয়ার পর তাঁর কিছু মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
ফল ঘোষণার পর সমর্থকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের জয়কে হিন্দু ভোটারদের সমর্থনের ফল বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারা বেশিরভাগই কট্টরবাদী। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নন্দীগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্যই তিনি কাজ করবেন। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই বিভাজনমূলক বলে মনে করছেন।
অন্যদিকে ভবানীপুর কেন্দ্রেও বড় জয় পান তিনি। এই কেন্দ্রে তিনি তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেন বলে জানা গেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে সুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই দলটির কোনও নির্দিষ্ট আদর্শ নেই এবং এটি একটি পরিবারকেন্দ্রিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত দল। তিনি দাবি করেন, খুব শিগগিরই রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী নন।
একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করতে বিজেপি বদ্ধপরিকর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলিও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। তবে সুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে তাঁর সমর্থকরা এই বক্তব্যকে সোজাসাপ্টা ও স্পষ্ট বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এ ধরনের মন্তব্য সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে।


