ভারতের ভৌগোলিক মানচিত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দীর্ঘদিনের জমিজট কাটিয়ে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো রকম আপস করা হবে না। তাঁর মতে, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও অনুপ্রবেশ রুখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। এতদিন মূলত জমি সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই অনেক জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ আটকে ছিল। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে সেই সমস্যার অবসান হতে চলেছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস (Demography) পরিবর্তন এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান:
- প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় দ্রুত ফেন্সিং বসানোর কাজ শেষ করা হবে।
- অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে।
- রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তা মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিলিগুড়ি করিডর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগ রক্ষা করে। প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থানগত নৈকট্যের কারণে এই এলাকাটি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেন্সিং-এর কাজ সম্পন্ন হলে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্য ও কেন্দ্রের এই সমন্বিত উদ্যোগ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


