পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এল নতুন সরকার। নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হচ্ছে। বার্ধক্য ভাতার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতাও সমপরিমাণ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই এই সামাজিক প্রকল্পগুলিতে বড়সড় বদল আসতে চলেছে। দফতরের নতুন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী ভাতা দ্বিগুণ করে মাসে ২০০০ টাকা করা হচ্ছে। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের বদলে বিজেপি সরকার আগেই ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই নতুন প্রকল্পের অধীনে মহিলারা মাসে ৩০০০ টাকা করে পাবেন বলে জানানো হয়েছে। আগে ষাট বছরের উর্দ্ধে মহিলারা বর্ধিত হারে টাকা পাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বয়স্ক মানুষদের ভাতার পরিমাণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক মিটতে চলেছে। সরকার জানিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকেই ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর সুবিধা দেওয়া শুরু হবে। তবে বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী ভাতার বর্ধিত টাকা ঠিক কবে থেকে হাতে পাবেন উপভোক্তারা, তা শীঘ্রই সরকারিভাবে ঘোষণা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগের সরকারের কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করা হবে। সরকারি সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তি বা অভারতীয়রা যাতে জালিয়াতি করে এই সুবিধে না নিতে পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতির আড়ালে প্রকৃত জনকল্যাণকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে বলে সরব হয়েছে বিরোধীরা। অন্নপূর্ণা ভান্ডারের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নগদে সাহায্যের টোপ দেওয়া হলেও, রাজ্যের কর্মসংস্থান বা শিল্পায়নের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো এখনো উপেক্ষিত। সমালোচকদের মতে, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন এবং তালিকায় কাটছাঁট করার প্রক্রিয়াটি আসলে সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি কৌশল মাত্র। বিশেষ করে, মৃত বা অভারতীয় তকমা দিয়ে উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের নামে যে প্রশাসনিক কড়াকড়ির কথা বলা হচ্ছে, তা অনেক অসহায় মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা বলয় থেকে বাইরে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উন্নয়নের সুষম বণ্টনের চেয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মেরুকরণই এই সরকারের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশ মনে করছে।


