শুক্রবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও আশা প্রকাশ করলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। বিধানসভার অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি ভোট-পরবর্তী হিংসা থেকে শুরু করে বিরোধী বিধায়কদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার বিষয়ে জোরালো সওয়াল করেন।
২০২১ সালের নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে নওশাদ জানান যে সে সময় হিংসার যে চিত্র তিনি দেখেছিলেন তাতে তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যেই বলেন যে ২০২১ সালে জেতার পর তাঁর মনে হয়েছিল ছয় মাসের মধ্যেই ইস্তফা দিয়ে দেবেন কারণ তিনি ভেবেছিলেন পদত্যাগ করলে হয়তো তাঁর দলের কর্মীরা অন্তত শান্তিতে বাঁচতে পারবে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন যে বিরোধী বিধায়ক হিসেবে তিনি কোনো সহযোগিতা পেতেন না এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেও তার কোনো উত্তর আসত না।
বিজেপি প্রসঙ্গে নওশাদ তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে জানান যে তিনি বিজেপিকে ঢালাও কোনো শংসাপত্র দিচ্ছেন না তবে অহেতুক বিরোধিতার পথেও হাঁটবেন না। তাঁর মূল লক্ষ্য জনগণের উন্নয়ন এবং সেই কারণেই তিনি বিরোধীদের গঠনমূলক প্রস্তাবকে শাসক দলের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান। তিনি মনে করেন বিধানসভায় যেন কোনোভাবেই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ না করা হয় এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ ভুলে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষকে মানুষের জন্য মিলেমিশে কাজ করতে হবে। নওশাদের মতে আগামী পাঁচ বছর বাংলার মানুষের জন্য প্রকৃত অর্থে কাজ করাই হবে আসল পরীক্ষা এবং মানুষই শেষ পর্যন্ত বিচার করবেন তাঁরা ভবিষ্যতে কাদের বেছে নেবেন।
এদিন বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নবনিযুক্ত অধ্যক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান যাতে বিরোধীদের কথা বলার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে সমস্ত বিধায়ক ব্যক্তিগত স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিধানসভার গরিমা বজায় রাখবেন এবং জনস্বার্থে আলোচনায় অংশ নেবেন। জনসাধারণের সুবিধার্থে তিনি একটি বড় ঘোষণা করে জানান যে এখন থেকে বিধানসভার সমস্ত কাজ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রতিনিধিদের কাজ সরাসরি দেখতে পান। বিধানসভার পরিবেশকে কাজের উপযোগী করে তোলার ওপর এদিন তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন।


