রাজ্যে কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দিশা দেখাতে না পেরে এবার গো-বলয়ের রাজনীতি বাংলায় আমদানি করার চেষ্টা শুরু করল বিজেপি নেতৃত্বাধীন ডবল ইঞ্জিন সরকার। মঙ্গলবার প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এক বৈঠকের পর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এবার থেকে বাংলায় কেন্দ্রের বিতর্কিত ‘জাতীয় গোকুল মিশন’ প্রকল্প চালু করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদি সরকারের এই পুরনো প্রকল্পকে হাতিয়ার করে আসলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার নামে বিভাজনের রাজনীতি ও ধর্মীয় মেরুকরণকেই উস্কে দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
বিগত দিনে বাংলার পূর্বতন সরকার রাজ্যের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিকাঠামো অনুযায়ী গ্রামীণ অর্থনীতি পরিচালনা করত, যেখানে কেন্দ্রের এই ধরনের চাপিয়ে দেওয়া প্রকল্পের কোনো স্থান ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দিল্লির তুষ্টির জন্য এই প্রকল্পগুলি চালু করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার জেলাস্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষ দাবি করেন যে, বিগত সরকার অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রেখেছিল, যা এবার জোর করে চালু করা হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য মূলত দুধ না দেওয়া গোরুদের তথাকথিত সংরক্ষণ। জবাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে রাজ্যজুড়ে সাধারণ গোপালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন, সেই আসল সমস্যাকে আড়াল করতেই এখন গোরু সংরক্ষণের ফাঁকা বুলি আওড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, এই প্রশাসনিক উদ্যোগের সমান্তরালে বিজেপির চিরপরিচিত বিজ্ঞানচেতনা-হীন কুসংস্কার ছড়ানোর চেনা ছকও এদিন আরও একবার সামনে এসেছে। কাঁকুড়গাছিতে এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অবৈজ্ঞানিক দাবি করে বসেন যে, গোরুকে আদর করলে নাকি মানুষের রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার কমে যায়। এখানেই শেষ নয়, গোরুর পিঠের কুঁজে হাত বোলালে নিমেষে রোগ সারে এবং গোবরের মাধ্যমেও নানা দুরারোগ্য ব্যাধির নিরাময় সম্ভব বলে আজব দাবি করেন তিনি।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও যুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একজন মন্ত্রীর মুখে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কাল্পনিক দাবি নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের বেকারত্ব ও আসল উন্নয়নমূলক ইস্যুগুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই সচেতনভাবে এই ধরনের অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব এবং গো-রাজনীতি বাংলার মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।


