কলকাতা হাই কোর্টের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যেতে পারবেন না তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম না করে করা এক বিতর্কিত মন্তব্য মামলায় বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবারের তিনবারের সাংসদকে তীব্র ভর্ৎসনা করল আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন যে, একজন দায়িত্বশীল সাংসদ হয়ে কীভাবে তিনি এই ধরনের মন্তব্য করতে পারলেন। তবে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তারের মতো কড়া পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, পুলিশ যদি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়, তবে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস পাঠাতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি খারিজের আবেদন নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তদন্তের নামে তাঁর মক্কেলকে হেনস্তা করা হতে পারে, তাই ভার্চুয়ালি হাজিরার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু আদালত সেই আবেদন স্পষ্ট খারিজ করে জানিয়ে দেয় যে, আইন মেনেই তদন্ত চলবে এবং অভিষেককে সশরীরে হাজিরা দিয়ে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, একটি সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে যদি এমন মন্তব্য করা হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকম হলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত, তা ভাববার বিষয়।
শুনানির এক পর্যায়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আদালত ও আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা হয়। ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বিচারপতির মন্তব্যের জবাবে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলার মানুষ ২০২৬ সালের নির্বাচনেও ভালো কিছুর কথাই ভেবে রায় দিয়েছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের জনবিরোধী নীতি, স্বৈরাচারী মনোভাব এবং বিরোধী নেতাদের ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ যে বারবার রুখে দাঁড়িয়েছে, তা রাজনৈতিক মহলের চর্চায় উঠে আসে। তবে সমস্ত রাজনৈতিক তরজার ঊর্ধ্বে উঠে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আইনের শাসন বজায় রাখতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো রকম খামতি রাখা চলবে না।


