বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় পৃথক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুক্রবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিদেশি শাখা থেকে সমস্ত জেলাশাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিদেশি বিভাগ থেকে জারি হওয়া গাইডলাইনের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে ধৃত বিদেশি নাগরিক এবং যাঁদের কারাবাসের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়নি, তাঁদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় পৃথক হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে।
২৩ মে ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া ওই নির্দেশিকায় বিশেষভাবে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের ডিপোর্টেশন বা রিপ্যাট্রিয়েশন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের নির্ধারিত গাইডলাইন মেনেই জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যের ডিজি ও আইজিপি, সমস্ত পুলিশ কমিশনারেট, জেলা পুলিশ সুপার এবং কলকাতার বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর (FRRO)-এর কাছেও এই নির্দেশের কপি পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি অনুপ্রবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নতুন এই নির্দেশ কার্যকর হলে বিদেশি নাগরিকদের শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত ও দ্রুত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফে এখনও আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।


