নিউ টাউনে সোমবার রাতের এক সাধারণ যুবকের তৎপরতায় পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন বহুদিন ধরে পলাতক থাকা অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। যদিও গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান তিনি। এই ঘটনায় বিস্মিত সেই যুবক সাকিল আহমেদ, যিনি নিজের সাহসিকতায় অভিযুক্তকে আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।
মুর্শিদাবাদের কান্দির বাসিন্দা বছর তিরিশের সাকিল বর্তমানে নিউ টাউনের কাছে থেকে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোমবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ তিনি একটি রেস্তরাঁর সামনে বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় আচমকা একটি কালো রঙের চারচাকা গাড়ি দ্রুত গতিতে চলে যায়। ঠিক তখনই এক পথচারী ছিটকে এসে পড়েন সাকিলের স্কুটারের উপর। মুহূর্তের মধ্যেই সাকিল বুঝতে পারেন, ওই গাড়িটিই ধাক্কা মেরে পালানোর চেষ্টা করছে।
কোনও সময় নষ্ট না করে স্কুটার নিয়ে গাড়িটির পিছু নেন তিনি। কিছু দূরে গিয়ে সিগন্যালে অন্য গাড়ির ভিড়ে আটকে যায় কালো জিপটি। সুযোগ বুঝে সাকিল নিজের স্কুটার গাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে চালকের কাছে যান। কাছে যেতেই তিনি চিনতে পারেন, গাড়ির চালক আর কেউ নন, প্রশান্ত বর্মণ।
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রশান্তের নানা খবর আগেই দেখেছিলেন সাকিল। তাই তাঁকে দেখে আর ঝুঁকি নিতে চাননি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে লাইভ সম্প্রচার শুরু করেন। সাকিলের কথায়, প্রভাব খাটিয়ে যাতে অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে না পারেন, সেই কারণেই তিনি লাইভ শুরু করেছিলেন।
অভিযোগ, লাইভ শুরু হতেই প্রশান্ত বর্মণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি সাকিলকে গালিগালাজ করেন এবং ভয়ও দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও পিছিয়ে যাননি সাকিল। তিনি প্রশান্তকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। পরে সেখানে টহলরত পুলিশকর্মীরাও পৌঁছে যান। সাকিলের দাবি, সেই সময় প্রশান্ত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং পুলিশের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন।
প্রায় ২০ মিনিট ধরে তর্কাতর্কির পর পুলিশ তাঁকে নিজেদের গাড়িতে তোলে। দুর্ঘটনায় আহত পথচারী মোতালেব শেখকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতেও সাহায্য করেন সাকিল। এরপর তিনি ইকো পার্ক থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সব প্রক্রিয়া শেষ করে গভীর রাতে বাড়ি ফেরেন তিনি।
সাকিল বলেন, তিনি ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি করতে চান। তবে তাঁর কথায়, “সরকারি কর্মী হতে চাই, কিন্তু প্রশান্ত বর্মণের মতো মানুষ হতে চাই না।” তিনি আরও জানান, প্রশান্ত তাঁকে হুমকিও দিয়েছিলেন এবং তাঁর ছবি তুলেছিলেন। তবুও তিনি আইনের উপর ভরসা রেখে এগিয়ে গিয়েছিলেন।অন্যদিকে, মঙ্গলবার আদালতে তোলা হলে বিচারক মামলার প্রয়োজনীয় নথি দেখতে চান। কিন্তু সময়মতো সেই নথি আদালতে জমা না পড়ায় শেষ পর্যন্ত জামিন পেয়ে যান প্রশান্ত বর্মণ।
গত বছর নিউ টাউনে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপহরণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন প্রশান্ত। সেই মামলায় আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিন তিনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। অবশেষে গ্রেফতার হলেও দ্রুত জামিন পাওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


