ভোট পার হতে নির্বাচনের আগে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। তার মধ্যে অন্যতম ছিল আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের মহিলাদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মাধ্যমে মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়া। এতদিন মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ১,৫০০ টাকা পেতেন, যা নতুন সরকার আসার পর দ্বিগুণ হওয়ার কথা ছিল। প্রথমদিকে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছিল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকরা সরাসরি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। কিন্তু ক্ষমতা দখল করতেই ভোলবদল গেরুয়া শিবিরের। এবার টাকা দেওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে আমজনতার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এক মস্ত বড় ১২ পাতার ফর্ম।
এখানেই শেষ নয়, নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করলেই যে টাকা পাওয়া যাবে, এমন নয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে মন্ত্রীর অজুহাত, “তখন তো আমরা জানতাম না, এত পুরুষের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকে!” সরকারের এই যুক্তিকে স্রেফ ভাঁওতাবাজি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ছক হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। আসলে অনুদান কাটছাঁট করার লক্ষ্যেই সরকার এই জটিল ফর্মের চক্রান্ত ফেঁদেছে বলে অভিযোগ। অগ্নিমিত্রা আরও জানান, এই ফর্মের মাধ্যমে মহিলাদের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় অন্তত ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম ও পুরুষদের নাম রয়েছে। আর এই অজুহাতে মহিলাদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেপি সরকার। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী ও নারীকল্যাণ মন্ত্রী এবার জুজু দেখিয়েছেন নাগরিকত্বের। তাঁরা জানিয়েছেন, টাকা পেতে গেলে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ভারতীয় নাগরিক’ হতে হবে, যা খতিয়ে দেখতেই এই জটিল জাঁতাকল। বাংলার সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের আগে বড় কথা বলে ভোট লুঠের পর, এখন টাকা দেওয়ার বেলায় নানা শর্তের বেড়াজাল তৈরি করে গরিব মহিলাদের বঞ্চিত করার নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে বিজেপি সরকার।


