সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমিয়ে দিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। গত তিন বছর ধরে ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাচ্ছিলেন। এবার তা দু-ধাপ কমিয়ে ওয়াই ক্যাটেগরি করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা কমে যাওয়া নিয়ে সৌরভ নিজে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
সাধারণত মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে এক্স, ওয়াই বা জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়। সৌরভ ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তাই পেতেন। তখন তাঁর সঙ্গে অল্প কয়েকজন রক্ষী থাকতেন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে জেড ক্যাটেগরি করে। এর ফলে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায় এবং তাঁর গাড়ির আগে পাইলট কারও দেওয়া শুরু হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশকর্মী তাঁর সুরক্ষায় থাকতেন।
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরেই বিভিন্ন বিশিষ্ট মানুষের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে, সত্যি প্রয়োজন না থাকলে কাউকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। এর আগে তৃণমূল জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল জেড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই একে একে তৃণমূল নেতাদের নিরাপত্তা কমানো শুরু হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা যেমন কমানো হয়েছে, তেমনই এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো সৌরভের নাম।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিজেপির সঙ্গে সৌরভের সম্পর্কের ওঠানামাও একটি বড় কারণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সৌরভকে দলে টানতে চেয়েছিল। তাঁকে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি করা এবং তাঁর বাড়িতে অমিত শাহের নৈশভোজে যাওয়ার পেছনেও সেই রাজনৈতিক অঙ্ক ছিল। কিন্তু সৌরভ শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে যোগ দেননি, যা বিজেপি ভালোভাবে নেয়নি।
পরবর্তী সময়ে বিজেপি সৌরভকে ত্রিপুরার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করে সম্পর্কের বরফ গলানোর চেষ্টা করেছিল। সৌরভ নিজেও মমতার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার পাশাপাশি অমিত শাহের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে চলতেন। তবে ২০২৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পেন সফরে গিয়ে সৌরভ শালবনিতে নতুন ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা করেন। সম্প্রতি বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য এই নিয়ে সৌরভকে কটাক্ষও করেছিলেন। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ভারসাম্যের এই আবহেই শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন অধিনায়কের নিরাপত্তা কমিয়ে দিল নতুন সরকার।


