হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে এক মহিলাকে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে বাংলায় কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন যে, তিনি গরুর মাংস রান্না করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করতে শোনা যায় তাঁকে।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর গুরুগ্রাম পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। গুরুগ্রামে কাজ করলেও মহিলার বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বলেই জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওতে মহিলাকে একটি কড়াইয়ে রান্না করতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, সেখানে গরুর মাংস রান্না করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, অতিথির জন্য রুটিও তৈরি করেছেন এবং প্রয়োজনে ভাতও রান্না করতে পারেন। তবে ভিডিওতে করা দাবিগুলির সত্যতা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
এসিপি (ক্রাইম) নবীন জানান, ভিডিওটি সম্পর্কে অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা শুরু হয়। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত মহিলার স্মার্টফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ভিডিওটি তিনি নিজের উদ্যোগে তৈরি করেছেন নাকি অন্য কারও প্ররোচনা বা নির্দেশে তা করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, ভিডিওটির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র জড়িত রয়েছে কি না। এ সংক্রান্ত ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে বিভিন্ন দিক যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ভাইরাল ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ পুলিশ। মামলার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।


