কোচবিহারের দিনহাটায় এক নাবালিকাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় দিনহাটার বামনহাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে ওই নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নাবালিকাকে প্রথমে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য তার নিজেরই পরনের লেগিংস গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল দশটা নাগাদ স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ওই নাবালিকা। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এরপর সন্ধ্যা নামতেই পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজার এক পর্যায়ে স্থানীয় একটি পাটক্ষেতের ভেতর নাবালিকার দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারের সময় তার গলায় শক্ত করে একটি লেগিংস জড়ানো ছিল, যা নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল। খুনিরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই নৃশংস অপরাধ ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান স্থানীয়দের।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কোচবিহার জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি স্পষ্ট খুনের ঘটনা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার আগেই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। পুলিশ ইতিমিধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।


