তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ সাংসদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলের একাধিক সাংসদ আলাদা অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত লোকসভার স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আবেদন জমা পড়েনি, তবু বিষয়টি নিয়ে দিল্লি এবং বাংলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।সূত্রের খবর, কয়েকজন সাংসদ সংসদে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। সেই ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে বলেই দাবি করছেন ওই শিবিরের নেতারা। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না।এর অন্যতম কারণ, যাঁদের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে, তাঁদের সবাই শেষ পর্যন্ত একই অবস্থানে থাকবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি কোনও সাংসদ শেষ মুহূর্তে মত বদল করেন, তাহলে পুরো পরিকল্পনাই ধাক্কা খেতে পারে। সেই কারণেই বিক্ষুব্ধ শিবিরের মধ্যে চাপা উদ্বেগ কাজ করছে।এদিকে বিজেপির সঙ্গে এই সাংসদদের যোগাযোগ নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে দল অন্য কোনও রাজনৈতিক দল থেকে সাংসদ ভাঙিয়ে নেওয়ার পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়। তবুও রাজনৈতিক সমীকরণ যে দ্রুত বদলাচ্ছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বিক্ষুব্ধ বলে পরিচিত সাংসদদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। পাশাপাশি একটি নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকতে পারেন।অন্যদিকে, তৃণমূলের অনুগত সাংসদদের কাছে যোগাযোগ বাড়ানোর অভিযোগও উঠেছে। সূত্রের দাবি, কয়েকজন সাংসদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে তাঁদের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ অভিযোগ করেছেন, তাঁকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করবেন না। একইভাবে সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাও দলের প্রতি নিজের আনুগত্যের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেই অবস্থান থেকে তিনি সরে আসছেন না।এদিকে দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধের বিষয়েও আলোচনা চলছে। কিছু নেতা প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংযত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দলের প্রবীণ নেতাদের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং দলের অভ্যন্তরে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। তৃণমূলের অন্দরের এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ফের সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক! সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির?
Popular Categories


