কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে এবং বিজেপি সাংসদ রমেশ জিগাজিনাগির মধ্যে মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) নিয়ে করা এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে।সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ রমেশ জিগাজিনাগি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “একজন দলিত ব্যক্তির আরএসএস নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন?” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আরএসএসকে যারা চ্যালেঞ্জ করেছে, তারা কেউ টিকতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, প্রিয়াঙ্ক খাড়গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট যোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।জিগাজিনাগির এই মন্তব্যের কড়া জবাব দেন প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট জাতপাতভিত্তিক মানসিকতার ছাপ রয়েছে। খাড়গের প্রশ্ন, একজন দলিত ব্যক্তি কি কোনও সংগঠনকে প্রশ্ন করার অধিকার রাখেন না? তিনি জানতে চান, জিগাজিনাগির মন্তব্য কি এই বার্তা দিচ্ছে যে দলিতদের আরএসএস সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়?খাড়গে আরও বলেন, জিগাজিনাগির বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যেন আরএসএসের সমালোচনা করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেউ বাঁচেনি” বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে? তাঁর মতে, এমন মন্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে জানান, তিনি ড. ভীমরাও আম্বেদকরের আদর্শে বিশ্বাসী। তাঁর কথায়, আম্বেদকরের শিক্ষা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করতে সাহস জোগায়। তাই কোনও ধরনের ভয় দেখিয়ে তাঁকে বা তাঁর মতো মানুষদের চুপ করানো সম্ভব নয়।এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল আরএসএসকে নিয়ে খাড়গের সাম্প্রতিক কিছু প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেছিলেন, আরএসএসের আইনি অবস্থান, নেতৃত্ব কাঠামো, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সংগঠনের নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনা উচিত। এই বিষয়ে তিনি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।প্রিয়াঙ্ক খাড়গের পাশে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলেই কিছু মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠেন। খেরা বলেন, খাড়গে যে প্রশ্ন তুলেছেন তা সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা দাবি করা কোনও অপরাধ নয়। তিনি মোহন ভাগবতের কাছে সংগঠনের সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি প্রকাশ করারও দাবি জানিয়েছেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও আরএসএস-বিজেপি শিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিনের আদর্শগত সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জাতপাতের রাজনীতি—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই বর্তমানে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
Popular Categories


