Tuesday, August 4, 2026
28.9 C
Kolkata

মানসিক ভাবে অসুস্থ বলে দাবি, পরদিনই ‘এনকাউন্টার’! বিহারে ভরত তিওয়ারির মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে পুলিশ!

বিহারের ভোজপুর জেলার এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মৃতের নাম ভরত ভূষণ তিওয়ারি। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল তারা। অন্যদিকে পরিবারের অভিযোগ, মানসিকভাবে অসুস্থ একজন মানুষকে গ্রেফতার করার বদলে পরিকল্পিতভাবে গুলি করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। ভরত ভূষণ সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে সরকারি কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে এক সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে হুমকিসূচক মন্তব্যও করেন। সেই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায়।পুলিশের দাবি, ভরতকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি অস্ত্র বের করেন এবং পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেননি। ১৬ জুন ভোজপুর পুলিশ একটি বিবৃতিতে জানায়, ভরত মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কাছে থাকা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনারও চেষ্টা চলছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভরত ভূষণ টানা কয়েক দিন ধরে ফেসবুক লাইভ করছিলেন। সেই লাইভে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, তিনি মূলত এলাকার নদীভাঙন ও বন্যা-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।১৭ জুন সকালে পুলিশ ও বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ভরতকে আত্মসমর্পণের জন্য চাপ দেয়। পুলিশের বক্তব্য, সে সময় ভরত হাতে পিস্তল নিয়ে আকাশে গুলি চালাচ্ছিলেন। বারবার আত্মসমর্পণের অনুরোধ করা হলেও তিনি গুলি চালানো বন্ধ করেননি। এতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল বলে দাবি পুলিশের।পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এসটিএফ সদস্যরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে তাঁকে ঘিরে ফেলেন। তবুও ভরত গুলি চালাতে থাকেন। এরপর আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের দাবি, গুলি তাঁর পায়ে লেগেছিল।তবে ঘটনার আগে ভরতের একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে তাঁকে নিজের পিস্তল ছুড়ে ফেলতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।গুলি লাগার পর ভরতকে আড়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরের নিচের অংশে একাধিক গুলি লেগেছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে পাটনার পিএমসিএইচ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এদিকে ভরতের বাবা কাশীনাথ তিওয়ারি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন সকাল থেকে তাঁকে থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে কোনও অপরাধী ছিল না, শুধু মানসিক ভারসাম্য ঠিক ছিল না। এত পুলিশবাহিনী থাকা সত্ত্বেও তাঁকে জীবিত আটক করা গেল না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা এবং পুরো অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠতে শুরু করেছে।

Hot this week

সপ্তাহভর বৃষ্টির পূর্বাভাস, ঝড়ের আশঙ্কা দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়

শ্রাবণের শুরু থেকেই দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়ার মেজাজ বোঝা দায়। কখনো...

ধর্ষণের অভিযোগ তোলায় চরম অপমান! নির্যাতিতাকে মাটিতে থুতু চাটিয়ে শাস্তি খাপ পঞ্চায়েতের

আদালত কিংবা আইনের পরোয়া না করে খাপ পঞ্চায়েতের মধ্যযুগীয়...

বিজেপির ৩০ বছরের শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধাক্কা, প্রথম উপনির্বাচনী লড়াইয়ে বিহারে জয়ী প্রশান্ত কিশোর

সোমবার উপনির্বাচনের ফল ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা...

Topics

সপ্তাহভর বৃষ্টির পূর্বাভাস, ঝড়ের আশঙ্কা দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়

শ্রাবণের শুরু থেকেই দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়ার মেজাজ বোঝা দায়। কখনো...

মহারাষ্ট্রে বেড়াতে গিয়ে হিন্দুত্ববাদী স্লোগানে অস্বস্তিতে পড়ল এক মুসলিম পরিবার

মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র নানেঘাট রিভার্স জলপ্রপাত ঘুরতে গিয়ে এক...

বাড়িপিছু বছরে আয় ২৩৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকার করার লক্ষ্যমাত্রা পঞ্চায়েতের

গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বাড়াতে নতুন নির্দেশিকা জারি করল...

Related Articles

Popular Categories