বিধানসভায় সই জালিয়াতি বিতর্কে এ বার রাজ্যের প্রবীণ নেতা তথা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের বাসভবনে হানা দিল রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা। শনিবার দিনের শুরুতে সিআইডি-র দু’জনের একটি দল সেখানে পৌঁছায় এবং ষাট মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে জেরা করে ফিরে যায়।
এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রশাসনকে সর্বতোভাবে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, যাঁরা এই জালিয়াতির প্রসঙ্গটি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন, তাঁদেরও জেরার মুখোমুখি হওয়া উচিত। প্রস্তাবপত্রে সই করার মুহূর্তে সেখানে সকলেই হাজির ছিলেন বলে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রবীণ এই নেতাকেই বিরোধী শিবিরের প্রধান হিসেবে মনোনীত করে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর কাছে একটি প্রস্তাবপত্র পাঠান। সেই পত্রে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই ছিল। কিন্তু সেই স্বাক্ষর ভুয়ো দাবি করে অধ্যক্ষ তা খারিজ করে দেন এবং হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। উলুবেড়িয়া পূর্ব এবং এন্টালির দুই জনপ্রতিনিধি যথাক্রমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা অধ্যক্ষের কাছে এই বিষয়ে নালিশ জানালে দল তাঁদের বহিষ্কার করে। যদিও পরবর্তীতে উনষাট জন সদস্যের সমর্থন জোগাড় করে ঋতব্রত নিজেই বিরোধী শিবিরের প্রধানের পদটি হস্তগত করেন।
প্রশাসন এই মামলার দায়ভার সিআইডি-র হাতে দেওয়ার পর থেকেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি বদলেছে। ইতিমধ্যেই ভবানী ভবনে অভিষেককে একাধিকবার ডেকে জেরা করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির হস্তাক্ষরের প্রতিলিপিও সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দারা। শুক্রবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করার চিঠি দিতে তদন্তকারীরা তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকায় এবং তাঁর পরিজনেরা সেই পত্র নিতে অস্বীকার করায় শনিবার ফের সেখানে তদন্তকারীদের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রতকে অধ্যক্ষ কর্তৃক বিরোধী শিবিরের শীর্ষপদে বসানোর সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। একক বিচারপতির বেঞ্চ অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় তিনি ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছেন, যার আইনি প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


