সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়াকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে দেখা দিচ্ছেন না বলে জানা গিয়েছে। ফলে তিনি কোথায় রয়েছেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রাজনৈতিক মহলে।
সূত্রের খবর, চলতি মাসের ১০ জুন সবং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী বিকাশকুমার টুং, যিনি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রীকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে কিছুদিন কাজ করার সুযোগ মিললেও নতুন সরকার গঠনের পর তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানসরঞ্জন ভুঁইয়া ছাড়াও সবং ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি আবু কালাম বক্স এবং ভোলানাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির মধ্যে এমন ধারাও রয়েছে, যেখানে সহজে জামিন পাওয়া যায় না।
এদিকে মামলার পর মানসরঞ্জন ভুঁইয়ার পক্ষ থেকে আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করা হলেও এখনও পর্যন্ত সেই বিষয়ে শুনানি হয়নি বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। সোমবার বিকেলেও মামলার অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ জুনের পর থেকে সবংয়ের বাড়িতে তাঁকে দেখা যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। যদিও রবিবার সন্ধ্যায় একটি বার্তার মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন যে ব্যক্তিগত কারণে তিনি জেলার বাইরে রয়েছেন। তবে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে কোনও তথ্য দেননি।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি কলকাতা ও দিল্লির মধ্যে যাতায়াত করছেন। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। সবংয়ের বর্তমান বিধায়ক অমল পণ্ডার কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ফলে মানসরঞ্জন ভুঁইয়ার অবস্থান ও মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।


