অযোধ্যার রামমন্দিরকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামমন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর আড়াই বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও কেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একবারও সেখানে পুজো দিতে যাননি। এই প্রশ্ন ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
একই সময়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের উত্তরপ্রদেশ সফরও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ঘুরে দেখেছেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশে তাঁর প্রথম সাংগঠনিক সফর হয়েছে ৪ জুলাই। এই ঘটনাকে ঘিরেও নানা প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উত্তরপ্রদেশ বিজেপির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘ অনুপস্থিতি অনেকের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে অমিত শাহের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ২০২০ সালের ৫ আগস্ট রামমন্দিরের ভূমিপুজোর সময় তিনি করোনায় আক্রান্ত থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে মন্দির উদ্বোধনের পরও তাঁর অযোধ্যা সফর না হওয়া নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বরাবরই অযোধ্যাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। ২০১৮ সালে তাঁর উদ্যোগেই ফৈজাবাদ জেলার নাম বদলে অযোধ্যা করা হয়। দীপাবলির সময় তিনি নিয়মিত অযোধ্যায় যান এবং সেখানে বড় আয়োজনের মাধ্যমে উৎসব পালন করেন। ফলে অযোধ্যাকে ঘিরে যোগীর সক্রিয়তা এবং অমিত শাহের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুলনা শুরু হয়েছে।
এদিকে রামমন্দির ট্রাস্টের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা ও অলঙ্কার লুটের অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অভিযোগের তদন্তে উত্তরপ্রদেশ সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপির অন্দরে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর দলের নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন স্তরে সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেও উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও এই বিতর্কে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে যোগী আদিত্যনাথ বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে রামমন্দির বিতর্ক, শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা এবং বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


