তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্নীতি নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন এবার বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে ঘুরল আইনের কাঁটা। দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত এলাকায় তৃণমূল সাংসদের বাড়ি ও তাঁর বিতর্কিত সংস্থা লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস-এর সম্পত্তিতে ঠিক কোথায় কোথায় গলদ রয়েছে, তা আগামী সাতদিনের মধ্যে খতিয়ানসহ আদালতকে জানাতে হবে। কলকাতা পুরসভাকে এই চরম নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র সিঙ্গল বেঞ্চ। একইসঙ্গে ওই বহুতলে বেআইনি নির্মাণের পরিমাণ কতটা, তা স্পষ্ট করে বাড়ির মালিকদেরও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহ পর এই হাইপ্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
এর আগে কলকাতা পুরসভা ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ওই বাড়িটিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে নোটিস পাঠিয়েছিল। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বাড়িটিকে বৈধ দাবি করে তড়িঘড়ি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আদালতের এই কড়া নির্দেশে উল্টে মুখ পুড়ল শাসক পরিবারেরই। কারণ, হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পুরসভাকে সমস্ত বিচ্যুতি সংক্রান্ত নথিপত্র পেশ করতেই হবে।
শুধু হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটই নয়, ভবানীপুর ও হরিশ মুখার্জি রোডসহ অভিষেকের আত্মীয়দের নামে থাকা মোট ১৭টি সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ৪০১ ধারায় নোটিস ঝুলিয়েছে পুরসভা। সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও অতিরিক্ত নির্মাণের কাগজ দেখতে চাওয়া হয়েছে। এতদিন দলীয় ক্ষমতার জোরে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চললেও, আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর তৃণমূলের অলিখিত ‘শান্তিনিকেতন’ এখন চরম অস্বস্তিতে। আইন সবার জন্য সমান, তা প্রমাণ করতেই যেন আদালতের এই ৭ দিনের ডেডলাইন।


