উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের শাস্ত্রী নগর এলাকায় গোমাংস বহনের সন্দেহে এক মুসলিম ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম সেলিম বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি শাস্ত্রী নগর এলাকায় সেলিম নামে ওই ব্যক্তি কিছু মাংস নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। অভিযোগ, তাঁরা নিজেদের ‘গোরক্ষক’ দলের সদস্য বলে পরিচয় দেন এবং সেলিমের কাছে থাকা মাংসকে গোমাংস বলে দাবি করেন। এরপর তাঁকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সেলিমকে ঘিরে রেখেছেন এবং তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে যায়। পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেলিমের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মাংসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ওই মাংসের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মারধরের অভিযোগের বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বা ফরেনসিক পরীক্ষার ফল কী হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং সমাজকর্মীদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আক্রমণ করা আইনসম্মত নয়। তাঁদের বক্তব্য, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে গোমাংস বহন বা গরু পাচারের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বছর হরিয়ানার চরখি দাদরিতেও একই ধরনের সন্দেহের জেরে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল। গাজিয়াবাদের সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়েও তদন্ত চলছে। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Popular Categories


