বিহারের নওয়াদা জেলায় এক মুসলিম তরুণীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে ঘটনার তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, এক হিন্দু যুবকের সঙ্গে দেখা যাওয়ায় ওই তরুণীকে একদল ব্যক্তি প্রকাশ্যে হেনস্থা করেন এবং তাঁর পরনে বোরখা খুলতে বাধ্য করেন।জানা গিয়েছে, ঘটনাটি গত সপ্তাহে নওয়াদার কমলপুর গ্রামে ঘটে। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ওই তরুণী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা যুবককে ঘিরে রেখেছেন। তরুণী বারবার তাঁদের অনুরোধ করছেন যাতে ভিডিও করা বন্ধ করা হয় এবং তাঁকে বিরক্ত না করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, সেই অনুরোধে কর্ণপাত করা হয়নি।ভিডিওতে আরও দেখা যায়, উপস্থিত কয়েকজন যুবকের চাপে হিন্দু যুবকটিকে ওই তরুণীর কপালে সিঁদুর পরাতে বলা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনকে নানা মন্তব্য করতে শোনা যায়। তরুণী আপত্তি জানালেও পরিস্থিতি ক্রমশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর তাঁর বোরখা বলপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়। তরুণীর সঙ্গে থাকা যুবকটি বারবার ওই দলকে সরে যেতে এবং তাঁদের একা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু অভিযোগ, কেউ তাঁর কথা শোনেনি। বরং কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের অনুসরণ করতে থাকেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ চালিয়ে যান। এর ফলে ওই যুগলকে প্রকাশ্যে অপমানের মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।ভিডিওটি সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং ধর্মের নামে হেনস্থার ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এদিকে নওয়াদা পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করার কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটির উৎস ও পুরো ঘটনার ক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে, যাতে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা যায়।পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসনের দাবি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ককে ঘিরে হেনস্থা এবং সামাজিক নজরদারির প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Popular Categories


