বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার জেরে পাসপোর্ট পেতে সমস্যার মুখে পড়েছেন কোচবিহারের এক বাসিন্দা। এই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, বর্তমান গতিতে এসআইআর সংক্রান্ত আপিলের নিষ্পত্তি চলতে থাকলে সমস্ত মামলার শুনানি শেষ করতে প্রায় ২১ বছর সময় লাগতে পারে।বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আবেদনকারী কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা। তিনি তৎকাল পদ্ধতিতে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু যাচাই প্রক্রিয়ার সময় তাঁর আবেদন স্থগিত রাখা হয়। কারণ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং তাঁর ইপিক নম্বর আর বৈধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে না।আবেদনকারীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার ভোটার ছিলেন। তাঁর প্রয়াত বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। পাশাপাশি তাঁর মায়ের নামও বর্তমান সংশোধিত তালিকায় বহাল রয়েছে। নিজের নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে তিনি চলতি বছরের ৪ এপ্রিল এসআইআর আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করেন। কিন্তু তিন মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁর মামলাটি শুনানির তালিকায় ওঠেনি।এই পরিস্থিতিতে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতে জানানো হয়, আবেদনকারী একটি জটিল পেটের রোগে ভুগছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান। পাসপোর্ট না পাওয়ায় তাঁর চিকিৎসার পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আগামী ২২ জুলাই তাঁর নথি যাচাইয়ের পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।শুনানির সময় বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট না হলে কাউকে পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মতে, আবেদনকারীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অবস্থান নির্ধারণের জন্য প্রথমে এসআইআর আপিল ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সেই সিদ্ধান্ত ছাড়া পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষে এগোনো কঠিন।তবে একই সঙ্গে আদালত ট্রাইবুনালের কাজের ধীর গতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, বর্তমানে যে হারে আপিলের নিষ্পত্তি হচ্ছে, তাতে সমস্ত মামলা শেষ করতে প্রায় ২১ বছর লেগে যেতে পারে। এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালকে আবেদনকারীর মামলার শুনানি দ্রুত করার নির্দেশ দেন।অন্যদিকে আবেদনকারীর আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, পাসপোর্ট আইন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ভোটার পরিচয়পত্র পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক নথি নয়। পরিচয়, ঠিকানা এবং জন্মতারিখ অন্য নথির মাধ্যমে প্রমাণ করা গেলে ভোটার কার্ডের অভাব পাসপোর্ট প্রদানে বাধা হওয়া উচিত নয়। তাঁরা আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় অনুযায়ী এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া মানেই কাউকে অ-নাগরিক ঘোষণা করা নয়। তাই শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে পাসপোর্ট আটকে রাখা আইনসঙ্গত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।এই মামলাকে কেন্দ্র করে এসআইআর প্রক্রিয়া, আপিল নিষ্পত্তির গতি এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বহু মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবী মহলের একাংশ।
Popular Categories


