পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুললেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি বারুইপুরের ঘটনাকে সামনে এনে বাম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন এবং রাজ্য ও প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।শঙ্কুদেব পণ্ডার অভিযোগ, বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে কিছু বাম নেতা এমন মন্তব্য ও অবস্থান নিয়েছেন যা রাজ্যের সামাজিক পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। তাঁর দাবি, এই ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।বিবৃতিতে তিনি বামপন্থী রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে একাংশের রাজনীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাম নেতাদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।শঙ্কুদেব আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের বাম শাসনের প্রভাব এখনও রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে দেখা যায়। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু শক্তি একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট মতাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।বিবৃতিতে তিনি অতীতের কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনারও উল্লেখ করেন। নন্দীগ্রাম, নেতাই, মরিচঝাঁপি এবং বিজন সেতুর মতো ঘটনাকে সামনে এনে তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন হওয়া দরকার। তাঁর মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনও অশান্তি বা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন।কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবির পাশাপাশি তিনি সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক স্তরে কড়া পদক্ষেপেরও কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে শান্তি ও সামাজিক স্থিতি বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলির দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। ফলে শঙ্কুদেব পণ্ডার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
Popular Categories

