পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও অ-শিক্ষক কর্মীদের একটি বড় অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত প্রায় ৩৬০ জন কর্মীর দায়ের করা একগুচ্ছ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। চাকরি নিয়মিতকরণ এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি এ জি মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। আদালত জানায়, মোট আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রথমে ১৩টি মামলাকে নমুনা হিসেবে বেছে নিয়ে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়। বিচারপতিরা বলেন, যদি এই ১৩ জনের মধ্যে কারও দাবিতে যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যেত, তাহলে বাকি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালত মনে করেছে, ওই ১৩টি মামলার কোনওটিতেই আইনি ভিত্তিতে স্বস্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু ১৩ জন নয়, বাকি সমস্ত আবেদনকারীর দাবিও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সব আবেদনই খারিজ করা হচ্ছে। আদালতের মতে, এই মামলাগুলিতে এমন কোনও উপাদান পাওয়া যায়নি যা আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন স্বীকৃত মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা মিলিতভাবে প্রায় ৪৮টি পৃথক আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল চাকরি স্থায়ীকরণ এবং রাজ্য সরকারের অনুদান প্রকল্পের আওতায় বকেয়া অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান।
এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত বহু বছর আগে। ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন চালু হয়। ওই আইনের মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নির্দিষ্ট কমিশন গঠন করা হয়েছিল। পরে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হয়। ২০১৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট আইনটি বাতিল ঘোষণা করলেও পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনটির বৈধতা বহাল রাখে।
এরপর ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির কাজ ছিল একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হওয়া নিয়োগগুলি বৈধ কি না তা খতিয়ে দেখা। তদন্তের পর কমিটি জানায়, সেই সময়ে হওয়া বেশ কিছু নিয়োগ নিয়ম অনুযায়ী হয়নি। এর প্রতিবাদেই ক্ষুব্ধ কর্মীরা আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।


