পরিচালক ইমতিয়াজ আলির নতুন ছবি ‘ম্যায়ন ভাপস আউঙ্গা’ মুক্তির পর থেকেই আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দেশভাগের পটভূমিতে তৈরি এই ছবিকে ঘিরে কিছু মহল থেকে ‘দেশবিরোধী’ তকমাও দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সমালোচনার জবাবে স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন পরিচালক।
ছবিটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে তৈরি। গল্পে উঠে এসেছে নিজের ভিটেমাটি হারানোর যন্ত্রণা, বিচ্ছেদের কষ্ট এবং ভালোবাসার গল্প। মুক্তির পর প্রথমদিকে বক্স অফিসে ছবির সাড়া খুব বেশি না থাকলেও দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন শহরে পরিচালকের প্রচারাভিযানের ফলে ছবির প্রদর্শন দীর্ঘায়িত হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ আলি বলেন, এই ছবির উদ্দেশ্য কোনও দেশকে ভালো বা খারাপ দেখানো নয়। তাঁর কথায়, ছবির গল্প এমন এক সময়কে কেন্দ্র করে, যখন ভারত এখনও বিভক্ত হয়নি। তাই এটি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে তৈরি কোনও রাজনৈতিক ছবি নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশভাগের সময়কার মানুষদের অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই সব স্মৃতিচারণে তিনি ঘৃণার চেয়ে বেশি পেয়েছেন বিচ্ছেদের বেদনা, হারানোর কষ্ট এবং মানুষের প্রতি টান।
সমালোচকদের উদ্দেশে ইমতিয়াজের মন্তব্য, ভারতীয় মুসলিমরা দেশভাগের সময় অন্য দেশে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, সেটাই তাঁদের দেশপ্রেমের অন্যতম বড় প্রমাণ। এই মন্তব্য সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
সাক্ষাৎকারে তাঁকে ‘বাড়ি’ বা ‘নিজের ঘর’ সম্পর্কে ব্যক্তিগত ধারণা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে পরিচালক বলেন, মানুষের কাছে বাড়ি শুধু একটি জায়গা নয়, বরং তার অতীত, স্মৃতি এবং পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি অনুভূতি। তাঁর মতে, অনেক সময় মানুষ সেই পুরনো নিজেকে ফিরে পেতেই বাড়ির খোঁজ করে।
এদিকে ছবির সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানও বিতর্কের প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে ছবিকে ‘দেশবিরোধী’ বলা হলে রহমান সেটি শেয়ার করে হাসির ইমোজি ব্যবহার করেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়াও অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘ম্যায়ন ভাপস আউঙ্গা’ ছবিতে অভিনয় করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ, শারভরী ও বেদাং রায়না। ছবির গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে রয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরউদ্দিন শাহ। দেশভাগের ইতিহাসের সঙ্গে এক প্রেমের গল্পকে মিলিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেছেন ইমতিয়াজ আলি। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন এ আর রহমান এবং গানের কথা লিখেছেন ইরশাদ কামিল। ছবিটি বর্তমানে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং দর্শকদের একাংশের প্রশংসাও কুড়িয়েছে।


