তামিলনাড়ুতে গোহত্যা বন্ধ করার নির্দেশ আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট মাদ্রাজ হাই কোর্টের ওই নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। এর ফলে রাজ্যের বর্তমান আইন অনুযায়ী পশু জবাই সংক্রান্ত বিধি আপাতত বহাল থাকছে। এই সিদ্ধান্তকে তামিলনাড়ু সরকারের জন্য বড় স্বস্তি বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানির সময় আদালত জানায়, হাই কোর্টের রায়ে কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই আপাতত ওই নির্দেশ কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের মে মাসে। কোয়েম্বত্তূরের এক বাসিন্দা জনস্বার্থ মামলা করে দাবি করেছিলেন, রাজ্যে গরু জবাইয়ের উপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা হোক। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মাদ্রাজ হাই কোর্টের একটি অবসরকালীন বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে নির্দেশ জারি করে। আদালত রাজ্য প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলে এবং পুরনো একটি সরকারি নির্দেশ কার্যকর করার কথা উল্লেখ করে।
হাই কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছিল, রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে। আদালতের মতে, এর ফলে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে সহায়তা মিলতে পারে। তবে এই নির্দেশের বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশু সংরক্ষণ এবং কসাইখানা পরিচালনা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক আইন চালু রয়েছে। সেই আইনগুলিতে কোন পরিস্থিতিতে এবং কী শর্তে পশু জবাই করা যাবে, তার স্পষ্ট নিয়ম উল্লেখ আছে। কিন্তু কোথাও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি।
সরকার আদালতে আরও জানায়, ১৯৫৮ সালের প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কিছু ক্ষেত্রে পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া যায়। বিশেষ করে বয়সজনিত কারণে কর্মক্ষমতা হারানো বা প্রজননের উপযোগিতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সেই ব্যবস্থা করা সম্ভব। রাজ্য সরকারের দাবি, হাই কোর্টের নির্দেশ বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই যুক্তি শুনেই সুপ্রিম কোর্ট আপাতত হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে প্রশাসন, পশুপালন শিল্প এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের।


