লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের টানা অনশন বুধবার ১৮ দিনে পড়ল। দীর্ঘদিন না খাওয়ার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করার আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এক আইনজীবী।
আইনজীবী রাকেশকুমার সাইনি আদালতে আবেদন করে জানান, সোনমের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে তরল খাবার ও জরুরি পুষ্টি দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ ওই মামলা করার অনুমতি দিয়েছে। বুধবারই বিষয়টির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গিয়েছে, ‘ককরোচ’ জনতা পার্টির নেতৃত্বে চলা একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে সোনম যন্তরমন্তরে অনশনে বসেন। নিট পরীক্ষার বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কেন্দ্রের তরফে কোনও জবাব না পাওয়ার পর ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন সোনম।
গত কয়েকদিনে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। বিরোধী দলের নেতা-সাংসদদের পাশাপাশি সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নসীরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ এবং অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষও তাঁর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা সোনম ও অন্যান্য অনশনকারীদের আন্দোলন শেষ করার অনুরোধ করেন।
তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানেই রয়েছেন সোনম। তাঁর ওজন কমেছে বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারীদের সংগঠন। কেন্দ্রের নীরবতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে।


