জম্মু ও কাশ্মীরের বিখ্যাত বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে ভক্তদের দান করা বিপুল পরিমাণ রুপোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা মূল্যের রুপোর সামগ্রী আসল ছিল কি না, কিংবা তার কোনও অংশ গায়েব হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার জম্মুর একটি আদালত জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্তের অগ্রগতি এবং এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্য আদালতের সামনে পেশ করতে হবে। আগামী শুনানির দিন সমস্ত নথি-সহ তদন্তকারী আধিকারিককে আদালতে উপস্থিত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। মন্দিরে বহু বছর ধরে ভক্তদের দেওয়া রুপোর বিভিন্ন সামগ্রী সরকারি টাঁকশালে পাঠানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সেগুলি গলিয়ে সংরক্ষণ করা। সেই সময়ই পরীক্ষার পর জানা যায়, পাঠানো ধাতুর একটি বড় অংশে প্রত্যাশিত পরিমাণ রুপো নেই। পরীক্ষায় দেখা যায়, সামগ্রীর খুব অল্প অংশে খাঁটি রুপো রয়েছে, আর বাকি অংশে অন্য ধাতুর উপস্থিতি বেশি।
এই তথ্য সামনে আসতেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রথমদিকে মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনেক ভক্ত হয়তো না জেনেই নিম্নমানের বা নকল ধাতুর সামগ্রী দান করেছিলেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি এক আইনজীবী। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি শুধুমাত্র ভুলবশত হওয়া ঘটনা নাও হতে পারে। তাঁর সন্দেহ, আসল রুপোর পরিবর্তে অন্য ধাতু মিশিয়ে দেওয়ার মতো কোনও অনিয়ম ঘটেছে।
এরপর তিনি ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে প্রতারণা, সম্পত্তি আত্মসাৎ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং সরকারি নথি বিকৃত করার মতো একাধিক গুরুতর বিষয় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি দ্রুত এফআইআর দায়ের এবং সমস্ত প্রমাণ সংরক্ষণের দাবিও জানানো হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, তদন্তের স্বার্থে সিসিটিভি ফুটেজ, পরীক্ষার রিপোর্ট, ডিজিটাল তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিরাপদে রাখা প্রয়োজন। তিনি আদালতের কাছেও এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানিয়েছে, বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। তবে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য, শুধুমাত্র প্রাথমিক অনুসন্ধান যথেষ্ট নয়, আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করাও জরুরি।
সব দিক বিবেচনা করে আদালত এবার তদন্তের পূর্ণ বিবরণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২৯ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্তকারী আধিকারিককে ব্যক্তিগতভাবে হাজির থাকতে হবে। সেই শুনানির দিকেই এখন নজর রয়েছে, কারণ সেখান থেকেই এই বহুচর্চিত বিতর্কের পরবর্তী দিক স্পষ্ট হতে পারে।


