দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প কুডনকুলমকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক তথ্য ফাঁসকারী গোষ্ঠী দাবি করেছে, এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু গোপন নথি সাইবার হামলার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর পরমাণু নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে যে তারা প্রায় ১৯ হাজার গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, একটি সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া নথিগুলির মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য, নির্মাণ সংক্রান্ত নকশা, যন্ত্রপাতির বিবরণ, সরবরাহকারী সংস্থার তথ্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু অংশও থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই তথ্য প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তাদের তথ্যভাণ্ডারের একটি অংশে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিক কোন ধরনের তথ্য বাইরে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ঘটনার কথা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এমন কোনও ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হতে পারে। কারণ পরমাণু শক্তি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত তথ্য সাধারণত উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়। এসব নথি ভুল হাতে পৌঁছে গেলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিকোলাস রথ এই ঘটনার গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে সাইবার হামলার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি মনে করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তায় সামান্য দুর্বলতাও বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ওয়ার্ল্ড লিকসের দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত মোট কয়েক লক্ষ ফাইল তাদের হাতে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার নথিকে তারা বিশেষভাবে সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেছে। যদিও এই দাবির সবকিছু এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, তার প্রভাব কতটা গুরুতর হতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

