নাগপুরে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও পোস্টকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় নাগপুর সাইবার পুলিশ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এমন কিছু তথ্য প্রচার করা হয়েছে যা মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে সক্ষম।নাগপুর পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার নবীনচন্দ্র রেড্ডি জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেছে। অভিযোগে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের প্রকাশিত ভিডিও, পোস্ট এবং সেইসব পোস্টের নিচে থাকা কিছু অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।এই অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপির নাগপুর শহর সামাজিক মাধ্যম শাখার আহ্বায়ক শিশির অরুণ ত্রিপাঠী। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে কনটেন্ট নির্মাতা মনীশ কাশ্যপ নীতিন গড়করি এবং ই-২০ জ্বালানি নিয়ে এমন কিছু বক্তব্য দেন, যা অভিযোগকারীর মতে সত্যের সঙ্গে মিল নেই এবং সাধারণ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে।শুধু একটি ভিডিও নয়, অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে ‘দেশি বয়েজ’, ‘হর্ষিত রাঠি’ এবং ‘অঙ্কলেশ ইনওয়াতি’ নামে পরিচিত কয়েকটি ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এসব পোস্টে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে এবং সেগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ যাচাই করার পর নাগপুর সাইবার পুলিশ ২০২৩ সালের ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৬, ৩৫২ ও ২৯৬ ধারার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীরা এখন সংশ্লিষ্ট ভিডিও, পোস্ট এবং অন্যান্য অনলাইন তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করছেন।এদিকে, ই-২০ জ্বালানি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, যেসব গাড়ি ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়, সেসব গাড়িতে এই জ্বালানি চালুর সিদ্ধান্ত আবারও খতিয়ে দেখা উচিত। এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।ই-২০ জ্বালানি মূলত ২০ শতাংশ ইথানল (আখ, ভুট্টা বা অন্যান্য কৃষিজ ফসল থেকে তৈরি অ্যালকোহল) এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোল মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। পেট্রোলের ব্যবহার কমানো, বিদেশ থেকে তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করা এবং দূষণ কমানোর লক্ষ্যেই এই জ্বালানি চালু করা হচ্ছে, এমনটাই দাবি কেন্দ্রী সরকারের। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জ্বালানি ব্যবহার করলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। গাড়ির ইঞ্জিনের কিছু যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে। জ্বালানির পাইপ বা রাবারের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুধু তাই নয়, গাড়ির জ্বালানি খরচ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে, কারণ ইথানলের শক্তি পেট্রোলের তুলনায় কম। দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছে এক লিটার ইথানল তৈরি করতে তিন থেকে দশ হাজার লিটার জলের প্রয়োজন হয়। ভারতবর্ষের কিছু রাজ্যে এখনো জলের অভাবে মানুষ হাহাকার করছে। বিরোধীরা এখানে প্রশ্ন তুলছে, কিভাবে সরকার পেট্রোলের দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে ই-২০ জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে?
Popular Categories


