আমেরিকায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-কে নিষিদ্ধ করার দাবি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংগঠনের প্রধান মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরের আগেই এই দাবি সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (USCIRF)। শুধু আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নয়, সংগঠনের নেতাদের সরকারি সম্মান দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করার কথাও বলা হয়েছে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মার্কিন সরকারকে পরামর্শ ও বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট দেয় USCIRF। সংস্থাটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের সঙ্গে RSS-এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের যোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির RSS-এর সঙ্গে সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
USCIRF-এর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, RSS-কে ভারতের একটি বৃহৎ সংগঠন হিসেবে দেখা হয় এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুসলিম ও খ্রিস্টান-সহ সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণেই সংগঠনের নেতাদের বিষয়ে মার্কিন সরকারের আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত বলে মত সংস্থাটির।
USCIRF-এর কমিশনার জিন মিলসও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, RSS-এর নেতৃত্বের সঙ্গে ভারত সরকারের যোগাযোগ থাকলেও তাঁদের সরকারি স্তরে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া বা কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানো উচিত নয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনায় যাঁদের ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির কথাও বলেছেন তিনি।
এই বিতর্কের মধ্যেই আগামী ২৯ অগস্ট নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবতের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আমেরিকার একটি হিন্দু সংগঠন, আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট এন্ড ডায়লগ -এর আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইট-ও ভাগবতের সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, RSS-এর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের উপর হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর যে অভিযোগ রয়েছে, তা বাদ দিয়ে এই সফরকে দেখা সম্ভব নয়।
এর আগে মার্চ মাসে প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল USCIRF। সেখানে RSS-সহ কয়েকটি সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ভারত সরকার অবশ্য সেই রিপোর্ট সরাসরি খারিজ করে দেয়। দিল্লির অভিযোগ ছিল, ভারতের পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল তথ্য তুলে ধরে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
USCIRF-এর চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদের ভূমিকা নিয়েও পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে ভারতীয় মহল। তাঁর জন্ম পাকিস্তানে এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে আগেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে তাঁর মন্তব্যের নিরপেক্ষতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে মোহন ভাগবতের কানাডা সফর নিয়েও একই ধরনের বিরোধ দেখা দিয়েছিল। এবার আমেরিকা সফরের আগে RSS-কে নিষিদ্ধ করার দাবি সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করল। ফলে ভাগবতের আসন্ন সফরকে ঘিরে ভারত ও আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নজর পড়েছে।


