তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের একটি মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ার কারণে দক্ষিণের রাজ্যগুলি যাতে ভবিষ্যতে সংসদে আসন হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে স্পষ্ট আইনি আশ্বাস চেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মহাবলীপুরমে আয়োজিত দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের ৩১তম বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই দাবি জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিজয়ের বক্তব্য, যে রাজ্যগুলি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে, সেই সাফল্যের কারণে সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া উচিত নয়। তাঁর কথায়, দক্ষিণের রাজ্যগুলির লোকসভায় বর্তমান প্রতিনিধিত্বের হার যাতে কমে না যায়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রকে আইন করে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হলে রাজ্যগুলির প্রতি ন্যায্যতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর রাজ্যগুলির আস্থাও বাড়বে।
তবে বিজয়ের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়েছে তাঁর সরকার। ডিলিমিটেশন বা লোকসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান বদলেছে বলে অভিযোগ করেছে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে। ডিএমকে-র মুখপাত্র সরবনন অন্নাদুরাই বিজয়ের অবস্থানকে ‘বারবার বদলে ফেলা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
এআইএডিএমকের পক্ষ থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘ইউ-টার্ন’ বলে আক্রমণ করা হয়েছে। দলের আইটি শাখার দাবি, কেন্দ্র যে ধরনের অবস্থানের কথা বলছে, বিজয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যও তার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাহলে বিধানসভায় আলাদা করে প্রস্তাব আনার প্রয়োজন কী ছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা।
উল্লেখ্য, ১২ অগস্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। সেখানে ৫৪৩টি লোকসভা আসন ভবিষ্যতেও একই রাখার পাশাপাশি রাজ্যগুলির মধ্যে বর্তমানে যে আসন বণ্টন রয়েছে, সেটিও অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানানো হয়েছিল। দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠকে অবশ্য বিজয় তাঁর বক্তব্যে সেই প্রস্তাবের কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি।
এই বিষয়টি নিয়েই বিরোধীদের আক্রমণ আরও জোরালো হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে) জানিয়েছে, ডিলিমিটেশন নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। দলের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত দক্ষিণের রাজ্যগুলির বর্তমান প্রতিনিধিত্ব রক্ষা করার বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বিধানসভায় পাশ হওয়া প্রস্তাবেই সেই অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
রাজ্যের আইন ও বিদ্যুৎসম্পদ মন্ত্রী সি টি আর নির্মলকুমারও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লোকসভায় মোট আসন ৫৪৩টিই রাখার পক্ষে সরকার আগের মতোই রয়েছে। ডিলিমিটেশন নিয়ে টিভিকে-র অবস্থানে কোনও বদল হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ফলে বিজয়ের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুতে ডিলিমিটেশন ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। আগামী দিনে এই বিষয়টি রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


