মুর্শিদাবাদের ডোমকলে বিধানসভা নির্বাচনের পর ফের সাফল্য পেল বামেরা। এ বার সমবায় সমিতির নির্বাচনেও আটটি আসনেই জয় পেয়েছেন সিপিএম সমর্থিত প্রার্থীরা। রবিবার বনিয়াখালি হরেরামপুর সমবায় সমিতিতে এই নির্বাচন হয়। মোট আটটি আসনের জন্য লড়াইয়ে নেমেছিল সিপিএম, তৃণমূল এবং কংগ্রেস। বিজেপি এই নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি আসনই দখলে নেয় বাম শিবির।
ফল প্রকাশের পর স্থানীয় সিপিএম নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দলীয় কর্মীরা লাল পতাকা হাতে নিয়ে এলাকায় ঘুরে বিজয় উদ্যাপন করেন। কোথাও লাল আবিরে রাঙিয়ে দেওয়া হয় একে অপরকে। ভোটের ফল ঘোষণার পরে বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছন ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা। তাঁকে ঘিরেও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়।
এর পর ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু হয় বিজয় মিছিল। পায়ে হেঁটে সেই মিছিল নাজিরপুর বাজারের দিকে এগিয়ে যায়। স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, সমবায় নির্বাচন হলেও এই ফলকে শুধুমাত্র একটি স্থানীয় ভোট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁদের মতে, ডোমকলে দলের সংগঠন যে এখনও সক্রিয় এবং মানুষের মধ্যে বামেদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এই ফলাফল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল ও কংগ্রেস সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও মানুষ বাম প্রার্থীদেরই বেছে নিয়েছেন। আটটি আসনেই জয় পাওয়াকে তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে উল্লেখ করেন।
সিপিএম নেতৃত্বের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ডোমকলে দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বামেদের কোনও আসন না থাকলেও ডোমকলের ফল তাঁদের কাছে আশার কারণ হয়ে উঠেছে। সমবায়ের ভোটে এই সাফল্য আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক পরিসরে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন দলের নেতারা।
মোস্তাফিজুরের বক্তব্য, এই ফল রাজ্যের অন্য জায়গাতেও একটি রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির কথা ভাবছেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হলে মানুষ নিজের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডোমকলের এই সমবায় নির্বাচন তাই স্থানীয় ফলাফলের গণ্ডি পেরিয়ে সিপিএমের কাছে নতুন করে আত্মবিশ্বাসের কারণ হয়ে উঠেছে।


