Tuesday, August 25, 2026
27 C
Kolkata

দশকের ব্যবধানে দ্বিগুণ কেন্দ্রীয় শূন্যপদ! বছরভিত্তিক ২ কোটি চাকরির হিসাব পুনরায় আলোচনায়, বাকি অর্ধেক কর্মী নিয়োজিত চুক্তিতে

দেশে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরগুলিতে গত এক দশকে খালি পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের জবাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌর আরটিআইয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরগুলিতে খালি পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লক্ষ ২১ হাজার। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ ২৪ হাজারে। অর্থাৎ, দশ বছরের ব্যবধানে শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

শুধু খালি পদের সংখ্যাই নয়, মোট অনুমোদিত পদের তুলনায় শূন্যপদের হারও বেড়েছে। ২০১৫ সালে এই হার ছিল প্রায় ১১.৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ২১ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে সরকারি চাকরির সুযোগ নিয়ে আগ্রহী যুবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে একই সময়ে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যাও বেড়েছে বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকারি ব্যবস্থায় চুক্তিভিত্তিক কর্মীর অংশ ছিল প্রায় ১৮.৬ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে এই হার অনেকটাই বেড়েছে। ফলে স্থায়ী পদ ফাঁকা থাকা অবস্থায় কেন অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উপর বেশি নির্ভর করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

রেল এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের তথ্যও আলোচনায় এসেছে। ২০১৫ সালে এই দুই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য শূন্যপদ না থাকলেও ২০২৪ সালে রেলে খালি পদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজারে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে শূন্যপদের সংখ্যাও বেড়েছে।

সরকারি সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির ছবি দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে প্রায় ২ লক্ষ ৯৬ হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। পরবর্তী দশকে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭ লক্ষ ৫৯ হাজার হয়েছে। অর্থাৎ, মোট কর্মীর একটি বড় অংশ এখন চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করছেন।

এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রের কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের বক্তব্য, সরকারি চাকরির স্থায়ী পদ পূরণ না করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। বছরে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়—সেই প্রশ্নও তুলেছে বিরোধীরা।

চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং যুব সমাজের বিক্ষোভের আবহে এই তথ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, প্রচার বা প্রতিশ্রুতির বদলে স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরিতে কেন্দ্রকে এবার কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে।

Hot this week

জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ হওয়া উচিত নয়, ফের বিতর্কিত মন্তব্য শক্তিমান খ্যাত মুকেশের

‘জন গণ মন’ নাকি ‘বন্দে মাতরম’—জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে ফের...

সরকারি ভাতা না মেলায় সংসারে অশান্তি, গাজোলে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী গৃহবধূ

অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে মালদহের...

সরকারের সমালোচনা করলেই অন্নপূর্ণার তালিকা থেকে নাম বাদ , হুঁশিয়ারি মালদার বিজেপি নেতার

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পর রাজ্য সরকারের সমালোচনা করলে...

জাতীয় সংগীত চলাকালীন মঞ্চত্যাগ, উত্তরপ্রদেশের স্পিকারের কাজে বিতর্ক

শনিবার উন্নাওয়ে কলেজ অধ্যক্ষদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন উত্তরপ্রদেশ...

দেশের সেবা করেও বঞ্চনা? কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে অনশনে আধাসেনার অবসরপ্রাপ্তরা

নতুন আইন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়াতে এবার...

Topics

সরকারি ভাতা না মেলায় সংসারে অশান্তি, গাজোলে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী গৃহবধূ

অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে মালদহের...

জাতীয় সংগীত চলাকালীন মঞ্চত্যাগ, উত্তরপ্রদেশের স্পিকারের কাজে বিতর্ক

শনিবার উন্নাওয়ে কলেজ অধ্যক্ষদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন উত্তরপ্রদেশ...

অবৈধ ঘোষণার পর বুলডোজার দিয়ে মাদ্রাসা ভাঙল উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন, গ্রেফতার মাওলানা ও ২ ছেলে

উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর জেলায় একটি মাদ্রাসা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার...

১৭ হাজার কোটির প্রকল্পের পরও বেহাল মুম্বই, রাস্তাজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ

একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে রাস্তার বেহাল দশা—দুইয়ের জেরে মুম্বইয়ে...

Related Articles

Popular Categories