দেশে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরগুলিতে গত এক দশকে খালি পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের জবাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌর আরটিআইয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরগুলিতে খালি পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লক্ষ ২১ হাজার। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ ২৪ হাজারে। অর্থাৎ, দশ বছরের ব্যবধানে শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
শুধু খালি পদের সংখ্যাই নয়, মোট অনুমোদিত পদের তুলনায় শূন্যপদের হারও বেড়েছে। ২০১৫ সালে এই হার ছিল প্রায় ১১.৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ২১ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে সরকারি চাকরির সুযোগ নিয়ে আগ্রহী যুবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যাও বেড়েছে বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকারি ব্যবস্থায় চুক্তিভিত্তিক কর্মীর অংশ ছিল প্রায় ১৮.৬ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে এই হার অনেকটাই বেড়েছে। ফলে স্থায়ী পদ ফাঁকা থাকা অবস্থায় কেন অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উপর বেশি নির্ভর করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।
রেল এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের তথ্যও আলোচনায় এসেছে। ২০১৫ সালে এই দুই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য শূন্যপদ না থাকলেও ২০২৪ সালে রেলে খালি পদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজারে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে শূন্যপদের সংখ্যাও বেড়েছে।
সরকারি সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির ছবি দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে প্রায় ২ লক্ষ ৯৬ হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। পরবর্তী দশকে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭ লক্ষ ৫৯ হাজার হয়েছে। অর্থাৎ, মোট কর্মীর একটি বড় অংশ এখন চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করছেন।
এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রের কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের বক্তব্য, সরকারি চাকরির স্থায়ী পদ পূরণ না করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। বছরে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়—সেই প্রশ্নও তুলেছে বিরোধীরা।
চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং যুব সমাজের বিক্ষোভের আবহে এই তথ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, প্রচার বা প্রতিশ্রুতির বদলে স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরিতে কেন্দ্রকে এবার কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে।


