রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূরে রেখে রাজ্যের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই আহ্বানের পর সরকারি বিভিন্ন বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুক্রবার বহরমপুরের রবীন্দ্রসদনে পঞ্চায়েত দপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকেও তারই ছবি ধরা পড়ল।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তাঁদের হাতে রাখি বেঁধে দেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনার গুরুত্ব রয়েছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, দুই সাংসদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।সম্প্রতি রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূলের ভিতরে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফল আশানুরূপ না হওয়ায় সংগঠনের মধ্যে চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি দলের একাধিক সাংসদের অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত থাকছেন, তা নিয়েও স্পষ্টতা নেই। এই অবস্থায় তাঁদের সঙ্গে মন্ত্রীর সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি করেছে।তবে রাখি পরানোর বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষ প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেননি। প্রশাসনিক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর তিনি ‘বন্দে মাতরম’ গান নিয়েও বক্তব্য রাখেন। তাঁর দাবি, এখন রাজ্যে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে রাখিবন্ধন পালন করার পাশাপাশি জাতীয় গানও সকলে গাইছেন। আগে যারা এতে অংশ নিতেন না, তারাও এখন যোগ দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।এদিকে শুক্রবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন ও রাজনীতির এই মেলবন্ধন আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর সবার।
বিদ্রোহী আবু তাহের খান এবং খলিলুর রহমানের হাতে দিলীপ ঘোষের রাখি কি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
Popular Categories


