কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুমিতা বর্মনের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব বুধবার পাস হয়ে গেল। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই জেলা পরিষদে মোট ৩৪ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন তৃণমূলের এবং দু’জন বিজেপির। বুধবার অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ডাকা বিশেষ সভায় ২২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন তৃণমূলের এবং দু’জন বিজেপির সদস্য। উপস্থিত ২২ জনই সভাধিপতির বিরুদ্ধে ভোট দেন।
অন্যদিকে, সুমিতা বর্মন-সহ তৃণমূলের ১২ জন সদস্য ওই বিশেষ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে সভায় উপস্থিত সব সদস্যের ভোটেই অনাস্থা প্রস্তাবটি পাস হয়।
বিশেষ সভার পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সজল তামাং। তিনি বলেন, সভায় উপস্থিত ২২ জন সদস্যই সভাধিপতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। সভার রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমিতা বর্মনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত ২৫ আগস্ট। ওই দিন তৃণমূলের সদস্য হিমানি ইশোরের নেতৃত্বে ১৭ জন সদস্য জেলা প্রশাসনের দফতরে একটি চিঠি জমা দেন। সেখানে তাঁরা সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার কথা জানান।
এর পরের দিন আরও ১৯ জন সদস্যের সই করা একটি চিঠি জলপাইগুড়ির ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বুধবার সেই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিশেষ সভা হয় এবং তা পাস হয়ে যায়।
অনাস্থা প্রস্তাব পাস হওয়ার পর এখন জেলা পরিষদের পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে। তৃণমূল সদস্য হিমানি ইশোর বলেন, সভাধিপতির বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়েছে। এবার প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।
তবে জেলা পরিষদে ক্ষমতার লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। এবার সহকারী সভাধিপতি আবদুল জলিল আহমেদের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে বিশেষ সভা প্রথমে ১৮ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। বিশ্বকর্মা পুজোর কারণে সেই সভা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এখন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ওই সভা হওয়ার কথা।
তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের সভাটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই সভায় সহকারী সভাধিপতির পক্ষে কতজন সদস্য থাকেন, তার উপর জেলা পরিষদের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে জেলা পরিষদের তৃণমূলের অন্দরে মতবিরোধের বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে।


