ভিন্রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ভাষার কারণে ফের হেনস্থার অভিযোগ উঠল। ছত্তীসগঢ়ে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়েছিল মুর্শিদাবাদের ২৩ জন পরিযায়ী শ্রমিককে। প্রায় ১৫ দিন ধরে আইনি জটিলতার পর তাঁদের মধ্যে ১৯ জনকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। তবে ভোটার তালিকা এবং এসআইআর সংক্রান্ত নথিতে সমস্যা থাকায় আরও চার শ্রমিক এখনও আটক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ৪ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের সুতি, রঘুনাথগঞ্জ এবং সামশেরগঞ্জ এলাকার ওই শ্রমিকদের ছত্তীসগঢ় পুলিশ আটক করে। কাজের সূত্রে তাঁরা সেখানে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে হাঁড়ি, বাসনপত্র এবং অন্যান্য ঘরোয়া জিনিস বিক্রি করতেন তাঁরা।অভিযোগ, পুলিশের কাছে আধার কার্ড-সহ একাধিক পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও তাঁদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। পরে তাঁদের আটক করে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছে এই খবর পৌঁছতেই মুর্শিদাবাদে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের পরিবারের দাবি, তাঁরা সকলেই ভারতের নাগরিক এবং বৈধ নথি তাঁদের কাছে রয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হন জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। পাশাপাশি জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। প্রশাসনিক ও আইনি উদ্যোগের পর অবশেষে ১৯ জন শ্রমিককে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে।তবে বাকি চারজনের ক্ষেত্রে এখনও জটিলতা কাটেনি। তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় না থাকায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন উঠেছে বলে জানা গিয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে তাঁদেরও মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।এই ঘটনার পর ভিন্রাজ্যে থাকা বাংলাভাষী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া বহু শ্রমিকই স্থানীয় ভাষার বদলে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলেন। শুধুমাত্র ভাষার ভিত্তিতে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিপিএম সহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
বিজেপি শাসিত ছত্তীসগঢ়ে বাংলা ভাষায় কথা বলাই ‘বাংলাদেশী’ তকমা! আটক ২৩ জন শ্রমিকের মধ্যে মুক্ত ১৯ জনের
Popular Categories

