আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে জেলে থাকা এবং মামলার বিচার এগোনোর গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ আদালত। বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ ও বিচারপতি প্রশান্ত বি বরলের বেঞ্চ তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে।এই মামলায় জামিন চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন সন্দীপ। কিন্তু সেখানে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর হাই কোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শুনানির সময় তাঁর আইনজীবী জানান, মামলায় মোট ১৪৭ জন সাক্ষীর তালিকা থাকলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়। এই পরিস্থিতিতে বিচার শেষ হতে দেরি হওয়ার যুক্তি তাঁর জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।আরজি কর হাসপাতালে এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর হাসপাতালের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। সেই অভিযোগের তদন্তে সন্দীপকে গ্রেফতার করে সিবিআই। পরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডিও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, হাসপাতালের টাকা ঠিকাদারদের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় সন্দীপের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে জামিন পাওয়া মানেই অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া নয়। ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও এর আগে জামিন পেয়েছিলেন তিনি।সন্দীপের জামিনের খবর সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার পরিবার এবং আরজি কর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকেরা। নির্যাতিতার বাবা সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে বলেন, বিচার না পেলে তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ছাড়া তাঁর আর কোনও পথ নেই।আন্দোলনকারী চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো ও দেবাশিস হালদারও তদন্তের গতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা দুর্বল হচ্ছে। চিকিৎসক সংগঠনগুলির একাংশের আশঙ্কা, জামিনের পর সন্দীপ আবার সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারেন। যদিও জামিনের নির্দেশে তাঁর নির্দোষ হওয়া প্রমাণিত হয়নি।চিকিৎসক সংগঠনগুলির দাবি, মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে এবং দুর্নীতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্যাতিতার পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, তার জন্য তদন্তকারী সংস্থার জবাবদিহিও জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।সন্দীপ ঘোষের জামিনকে ঘিরে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পরেও কি এই মামলায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে? এখন সেই দিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীদের।
হাই কোর্টে খারিজ হয়েছিল জামিনের আবেদন, সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি আরজি করের সন্দীপ ঘোষের! পুজোর মধ্যেই কি মুক্তি জেল থেকে?
Popular Categories


