উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে পড়ুয়াদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, নানা কারণ দেখিয়ে বারবার নির্বাচন পিছিয়ে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অথচ রাজ্য সরকার বা জেলা প্রশাসন নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়নি বলেই দাবি পড়ুয়াদের। তাঁদের মতে, নির্বাচন করাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনীহাই এই সমস্যার প্রধান কারণ।লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের গবেষক বিশাল সিং জানান, কখনও ভর্তি প্রক্রিয়া, কখনও রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ার কথা বলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার কখনও নিরাপত্তার অভাবের যুক্তি দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন চলাকালীন অপরাধমূলক কাজকর্ম বাড়তে পারে বলে প্রশাসন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৫ সালে। বিশালের বক্তব্য, সরকার বারবার জানিয়েছে যে তারা নির্বাচন বন্ধ করেনি, বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে নির্বাচন করাতে পারে। কিন্তু কবে নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও আশ্বাস মেলেনি।এবার আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে (এএমইউ) নির্বাচনের প্রস্তুতির খবর সামনে আসতেই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও নতুন করে আন্দোলনের আলোচনা শুরু হয়েছে। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) পড়ুয়াদের অভিযোগ, বহুবার দাবি জানিয়েও লাভ হয়নি। গবেষক রোহিত রানা বলেন, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকায় পড়ুয়ারা নিজেদের সমস্যা তুলে ধরার কার্যকর মঞ্চ পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, অনুমতি ছাড়া জন্মবার্ষিকী পালন করলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগে তাঁকে ২৬টি নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।দীনদয়াল উপাধ্যায় গোরক্ষপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও নির্বাচন ফের চালুর দাবি উঠছে। হিন্দি বিভাগের গবেষক বিবেক কুমার বলেন, একই রাজ্যে এএমইউ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পারলে গোরক্ষপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হবে না কেন? স্নাতকোত্তরের পড়ুয়া যোগেশ প্রতাপ জানান, একাধিকবার বিক্ষোভ ও অনশন করেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে।অন্যদিকে, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মতে, ছাত্র সংসদ না থাকায় রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে শেখার সুযোগ কমছে। পড়ুয়াদের সংগঠিত হওয়া, জননীতি বোঝা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তাঁরা। ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে লিংডোহ কমিটির সুপারিশ মানারও দাবি উঠেছে।কলেজ পড়ুয়ারাও এই দাবিকে সমর্থন করছেন। বরেলি কলেজের পড়ুয়া শিব কুমারের মতে, ছাত্রজীবনে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই উত্তরপ্রদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মিত নির্বাচন করানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।
Popular Categories


