দুর্গাপুজোয় ভিড় সামলানো এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রতি বছরই বিশেষ ব্যবস্থা নেয় কলকাতা পুলিশ। সাধারণত তৃতীয়া থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু এ বছর পুজোর ভিড় সামলানো এবং যান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একাধিক জায়গায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে পার্কিংয়ের অনিয়ম থেকে উত্তর কলকাতায় যান নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা—সব মিলিয়ে সমস্যায় পড়েছেন দর্শনার্থীরা।গত কয়েক বছরে পুজোর তৃতীয়া থেকেই রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের দু’পাশে গাড়ি দাঁড় করানো বন্ধ রাখা হত। যানজট কমাতে এই রাস্তায় বাড়তি পুলিশও মোতায়েন করা হত। গত বছর শুধু রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের যান চলাচল সামলাতে ৫০০ জন অতিরিক্ত পুলিশকর্মী দেওয়ার কথা জানিয়েছিল লালবাজার। নো-পার্কিং এলাকায় নজরদারির জন্যও বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন এক আধিকারিক। কিন্তু এ বার সেই ধরনের কড়াকড়ি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ।দেশপ্রিয় পার্ক থেকে রাজডাঙার দিকে এগোলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। ত্রিকোণ পার্কের কাছে রাস্তার দু’পাশে সারি দিয়ে গাড়ি ও বাইক দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা গিয়েছে। বাসন্তী দেবী কলেজের সামনের এলাকা পেরিয়েও একই ছবি দেখা যায়। বিজন সেতুর পর থেকে কসবা থানার কাছাকাছি পর্যন্তও নিয়ম না মেনে পার্কিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। ফলে ব্যস্ত রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।শুধু দক্ষিণ কলকাতাই নয়, উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিভিন্ন জায়গাতেও ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা গিয়েছে। বিধান সরণি, শ্যামবাজার ও হাতিবাগানমুখী রাস্তায় অন্যান্য বছরের তুলনায় পুলিশের নজরদারি কম ছিল বলে অভিযোগ। শহরতলি ও জেলার বহু মানুষ উল্টোডাঙা হয়ে এই এলাকায় ঠাকুর দেখতে আসেন। তাঁদের যাতায়াতের পথে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় যান চলাচল ও মানুষের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড থাকলেও তার উপর যথেষ্ট নজরদারি ছিল না বলে অভিযোগ। অনেক দর্শনার্থী ব্যারিকেডের নির্দিষ্ট পথ ছেড়ে মূল রাস্তায় নেমে পড়েন। এতে যান চলাচলে আরও সমস্যা তৈরি হয়। দেশপ্রিয় পার্ক থেকে কসবা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণেও স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।অন্যদিকে, ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে পুলিশের সক্রিয়তা ছিল যথেষ্ট। লালবাজারের হিসাব অনুযায়ী, পুজোর সাত দিনে বিভিন্ন ধারায় মোট ৪ হাজার ৩৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাস্তায় অভব্য আচরণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ৩৯৪ জন। সপ্তমীর দিন ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই দিনই ৮৩৩টি মামলা দায়ের করে পুলিশ।তবে আইন ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুজোর ভিড় সামলানো এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বও পুলিশের। তাই এ বছরের পুজোয় বিভিন্ন রাস্তায় নজরদারির ঘাটতি ও পার্কিংয়ের অনিয়ম নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
Popular Categories

