নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ আরও একবার প্রকাশ্যে এল। কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গের কাজের ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সঁধু ও বিবেক জোশী। কিন্তু তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করেনি ক্যাবিনেট সচিবালয়। তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই-এর আওতায় পাওয়া তথ্য থেকে এই বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে আলাদা আলাদা চিঠি পাঠান সঁধু ও জোশী। ওই চিঠিতে মণীশ গর্গের কাজের পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জানানো হয়। সমাজসেবী কমোডর লোকেশ কে বাটরার করা আরটিআই প্রশ্নের জবাবে ক্যাবিনেট সচিবালয় জানিয়েছে, চিঠি দুটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলেও সেগুলি নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে জমা পড়েনি। তাই এই বিষয়ে সরাসরি পদক্ষেপ করা বা কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করা ঠিক হত না বলে জানানো হয়েছে।ক্যাবিনেট সচিবালয় চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি, চিঠির প্রতিলিপি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রধান ব্যক্তিগত সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই অভিযোগগুলি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়ে।আরটিআই-এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মণীশ গর্গের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন দুই কমিশনার। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তিনি বিভিন্ন পদে কর্মরত অফিসারদের কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দিচ্ছেন। ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে ডিরেক্টর জেনারেল এবং অন্যান্য আধিকারিকদের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক সময় মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে এই কাজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। বিবেক জোশীর আরও দাবি, জরুরি কিছু নথি চাওয়া সত্ত্বেও কমিশনের প্রশাসনিক বিভাগ তাঁকে সেগুলি দেয়নি।এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কমিশনের দুই সদস্যকে কেন নিজেদের প্রতিষ্ঠানের বাইরে গিয়ে ক্যাবিনেট সচিবের দ্বারস্থ হতে হল? প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা দাবি করেছেন, অভিযোগগুলি কী এবং কমিশনের ভিতরে সেগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা উচিত।এর আগে ভোটার তালিকার সংশোধন, ফর্ম ৬-এর বয়ান পরিবর্তন এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর সময় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম তোলা নিয়ে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবর সামনে এসেছিল। অভিযোগ, গত ১০ মাসে সঁধু ও জোশী ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন।নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নতুন আরটিআই তথ্য সামনে আসার পর কমিশনের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।
দুই নির্বাচন কমিশনারের অভিযোগেও নড়ল না ক্যাবিনেট সচিবালয়! ‘স্বেচ্ছাচারী’ অফিসারকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য আরটিআইয়ে
Popular Categories


