ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ বন্ধ করতে দুই দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। সেই চাপের মুখেই সংঘর্ষ থামাতে রাজি হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার আমেরিকার ফ্লরিডায় এক নির্বাচনী সভা থেকে ফের এমনই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ভারত সরকার বরাবরই তাঁর এই দাবিকে অস্বীকার করে এসেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতার মধ্যস্থতায় নয়, পাকিস্তানের অনুরোধেই সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ভারত।ফ্লরিডার সভায় ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, লড়াই বন্ধ না করলে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যের সুযোগ হারাতে হবে দুই দেশকেই। পাশাপাশি, উভয় দেশের পণ্যের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, এত বিপুল শুল্ক চাপানো হলে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ত। তাঁর দাবি, এই অর্থনৈতিক চাপের ভয়েই দুই দেশ সংঘর্ষ বন্ধ করতে রাজি হয়।২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সময় থেকেই এমন দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। এর পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সংঘাতে ১১টি বিমান ধ্বংস হয়েছিল বলেও শুক্রবার ফের দাবি করেছেন ট্রাম্প।তবে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আমেরিকার ভূমিকা সম্পর্কে ভারতের বক্তব্য আলাদা। ২০২৫ সালের ১০ মে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ডিজিএমও ভারতীয় ডিজিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এর পর স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়।একই দিনে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো জানান, তিনি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অর্থাৎ, সংঘাতের সময় আমেরিকার কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল। কিন্তু শুল্কের হুমকিই সংঘর্ষবিরতির প্রধান কারণ ছিল, এমন দাবির পক্ষে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি।লোকসভাতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন, কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতার কথায় সংঘর্ষ থামেনি। অন্যদিকে, পাকিস্তান ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে। ফলে ভারত-পাক সংঘর্ষ থামানোর কৃতিত্ব নিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে মতপার্থক্য এখনও বজায় রয়েছে।
Popular Categories


