মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্ম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু এবং বিবেক যোশী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়মবিরুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে ক্ষতিকর। কিন্তু সেই আপত্তি গুরুত্ব পায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকী, কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ স্তরেও অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে পাওয়া তথ্য ঘিরে এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি কমিশনার মণীশ গর্গের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্যাবিনেট সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। তাঁদের বক্তব্য ছিল, নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, কোন আধিকারিককে কী দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং সেই সিদ্ধান্ত কারা নিচ্ছেন, তা দুই নির্বাচন কমিশনারকে জানানো হচ্ছিল না। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের বিষয় গোপন রাখা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁরা।কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত বা অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ক্যাবিনেট সচিব চিঠিটি আবার জ্ঞানেশ কুমারের কাছেই পাঠিয়ে দেন বলে আরটিআইয়ের জবাব থেকে জানা গিয়েছে। অথচ, অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ফলে যাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর কাছেই অভিযোগ পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।ক্যাবিনেট সচিবের বক্তব্য ছিল, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজে কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। সেই অবস্থান থেকেই তিনি চিঠিটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এই যুক্তি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, কমিশনের দুই সদস্য যখন নিজেদের প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলছেন, তখন সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল কি না।পুরো ঘটনা নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে এসআইআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে একাধিক কমিশনারের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে তার সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বক্তব্য বা কোনও স্বাধীন তদন্তের ফলাফল সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলা যায় না। আপাতত আরটিআইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা তথ্য নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিল।
Popular Categories


